কালিংপংএর Morgan House

কালিংপং বাজার থেকে রাস্তাটা ‌‌‌‍‍‍‍দুরপিনদারা পাহাড় বেয়ে Army Golf Course এর দিকে চলেছে। Golf course এর ঠিক উল্টো দিকেই আমাদের গন্তব্য The Morgan House.m3আমাদের গাড়িটা main gate দিয়ে ঢুকছে , বাগানের মধ্যে দিয়ে 20 মিটার যেতেই মনটা ভীষণ ভালো হয়ে গেল পাথরের তৈরী বাংলোটাকে প্রথম দেখে।m4.jpg

mhPorticoতে গাড়ি টা দাঁড়াতে আমি আর আমার better-half reception এর দিকে এগিয়ে গেলাম। ভেতরে পা দিয়ে দেখলাম পুরোটাই wooden flooring, একজন এগিয়ে এসে আমাদেরকে পাশের waiting room এ বসতে বললেন এবং গাড়ি থেকে আমাদের luggage গুলো নামিয়ে আনলেন।mh4Waiting room টা আসলে বাংলোটার drawing room, দারুন সুন্দর করে সাজানো। দেওয়ালে এই বাংলোটার  কিছু পুরনো ছবি , পুরানো কাগজের cut-out frame এ বাঁধানো, কিছু ছবি, সোফা সেট আর দেখার মতো একটা fireplace.mh2কিছুক্ষণ এর মধ্যে আমার check inn করে গেলাম এবং room এ ঢুকে আরেক বার মুগ্ধ হলাম। Spacious room, বড়ো বিছানা , dressing table, writing desk with chair আর জানালা দিয়ে দৃশ্যমান দুর্লভ Kanchanjangha.mh8

m5গরম জলে চান করে খিদেটা যেন বেড়ে গেছে তাই সামনে ধোঁয়া ওঠা খাবার দেখে আমরাও তার স্বতব্যবহারে ব্যস্ত হলাম। মেনুতে ডাল, ভাত, আলুভাজা আর মুরগির ঝোল কিন্তু রান্নাটা দুরদান্ত।m2পাহাড়ে তাড়াতাড়ি সন্ধে নামে তাই ভাত-ঘুমের রিস্ক না নিয়ে পেছনের বাগানে গিয়ে বসলাম। দুপুরের দিকে এদিকে রোদ আসে, সুন্দর করে সাজানো বাগানে পুরানো আমলের লোহার bench এ বসে মিষ্টি রোদ খেতে খেতে দুরের Kanchanjangha কে দেখতে থাকলাম, অপূর্ব।m7.jpgএকটু শীত শীত করতে দেখি সাড়ে তিনটে বাজে , রোদও পড়ে গ্যাছে, মাঝের সময়টা যে কোথায় উড়ে গেলো বুঝতেই পারলাম না। রুমে ফিরে একটু চা দিতে বললাম কারন ঠাণ্ডাটা জাঁকিয়ে বসছিল। এখানে চায়ে দুধ মিশিয়ে খেলে চায়ের মজাটাই মাটি, flavor টা নষ্ট হয়ে যায়। দারুন সুগান্ধি Darjeeling Tea খেতে খেতে বুঝলাম যে এই ঠাণ্ডায়ে শুধু এতেই হবে না, রাতে আরও কিছু চাই গরম থাকার জন্য।

mh6এখানে রুম হিটার ভাড়া করতে হয় কিন্তু আমরা বললাম ফায়ার প্লেস টা চালু করতে। ওয়েটার দাদা সেই মতন কাজে লেগে গেলো আর কিছুক্ষণ এর মধ্যেই কাঠ এনে আগুন জ্বালিয়ে ফায়ার প্লেস টা চালু করে দিলো। যেন ঘরের মধ্যেই born fire, আর তার গনগনে আগুনে ঘরটাও বেশ আরামদায়ক হয়ে উঠলো।k9.jpgসাড়ে আটটায় আমাদের ডিনার শেষ। এখানে সবাই আর্লি টু বেড, কিন্তু আমরা শহরের রাতজাগা মানুষ তাই আমাদের চোখে ঘুম নেই। ঠাণ্ডা রাত, শান্ত হোটেল, জানালার বাইরে লম্বা লম্বা কালো গাছ হাওয়ায় একটু একটু দুলছে  আর আমরা দুজনে লো ভয়েসে গল্প করছি এমন সময় চমকে গেলাম। মনে হোলো  কেউ যেন ঘরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে গেলো তারপর ধুপ ধাপ আওয়াজ করে দেওয়াল বেয়ে উঠে  ceiling ধরে রুমের আন্য প্রান্তে ছুট লাগাল। দেওয়ালে একটা জুতোর ছাপ আমরা তো পুরো চুপচাপ, দুজন দুজনের মুখ দেখছি, হটাৎ করে রুমে কি যেন ঘটে গেলো। কম্বল থেকে বেরিয়ে দরজা খুলে উঁকি দিলাম করিডোরএ। দেখলাম কিচেন এ আলো জ্বলছে তাই এগিয়ে গেলাম। একজন কাজ করছিল, জানতে চাইলাম যে কিসের আওয়াজ হল একটু আগে। স্টাফ দাদার কথায় বুঝলাম এই অনাসৃষ্টির মূল এ কে।m8.jpgশেষ দুপুরে দুটো ফ্যামিলি এসেছে দোতলার রুমে, সঙ্গে একটা দুরন্ত বাচ্চা। ওনারা উপরে পার্টি করছেন আর বড়দের মাঝে বাচ্চাটা bore হয়ে গিয়ে দুরন্তপনা করছিলো। ওয়েটার দাদার সাথে সে নিচে কিচেনে এসেছিল ঘুরতে কিন্তু যাওয়ার সময় দাদার হাত ছাড়িয়ে ছুট লাগিয়েছে উপরে। নিঃস্তব্ধ রাতে কাঠের ফ্লোর, কাঠের সিঁড়ি দিয়ে দৌড় লাগিয়ে ঐ একরত্তি আমাদের কিছুক্ষণ এর জন্য স্তব্ধ করে দেয়াছিলো। রুমে ফিরে Sharba কে পুরো ঘটনাটা বললাম আর দুজনেই হাঁসিতে ফেটে পড়লাম। শুনেছিলাম Morgan House এ Mrs. Morgan এর ভূত আছে তাই বলে এই অভিগ্তা হবে ভাবিনি, শুরু হল আমাদের ভূতের গল্প করা।

https://sayantansharba.wordpress.com/2016/05/10/an-encounter-with-mrs-morgan/

mh5

https://sayantansharba.wordpress.com/2016/03/21/kaffer-the-lonely-hamlet-of-lolegaon/

Advertisements

4 thoughts on “কালিংপংএর Morgan House

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s