Gopalpur-on-sea

IMG_0434গতপরশু গোপালপুর পৌঁছেছি, সারাদিন রেস্ট নিয়ে আর বিকালে অশান্ত সমুদ্রর সামনে বসে পুরো দিনটাই কেটে গেছিলো। Panthanivasএর cottageএ আছি, বীচের উপর যদিও সমুদ্র দেখা যায় না কোনো রুম থেকেই।

বড় বড় দুটো রুম সুন্দর করে সাজানো, ঠিকঠাক বাথ্রুম আর বেড্রুমের দরজা-জানালারা সমুদ্রর দিকেও খোলে। কমন ডাইনিং রুমটা ছোটো, বেসিক খাবার আর intercom নেই (খারাপ), মোবাইলই ভরসা। IMAG0357প্রপার্টীটা বেশ অনেকটা উঁচুনিচু জমির উপর তৈরি এবং বাগান দিয়ে সুন্দর করে সাজানো। হোটেলের পেছনের গেট পেরলে একটা সরু পায়েচলা পথ ঝাউ আর ম্যানগ্রোভের অগভীর জঙ্গলের মাঝ দিয়ে গিয়ে একটা উঁচুনিচু বালিয়াড়ির কিনারাতে এসে শেষ হয়েছে, এরপর খাড়া পার।20160402_081040.jpgএর আগে পর্যন্ত সমুদ্রের তীব্র হাওয়া আর ঢেউয়ের গর্জন শোনা যাচ্ছিল কিন্তু এবার বঙ্গোপসাগর এর সাক্ষাত পাওয়া গেল। বালিয়াড়ির ওই খাড়া পার বেয়ে নীচে নেমে যেতে হবে, সামনেই সমুদ্র। 

এখানে সমুদ্র পুরীর মত অত বিস্তৃত নয় এবং জলের টানও বেশি, তাছাড়া  চোরাবালি আছে কোথাও কোথাও তাই বেশি সাহস দেখানো ঠিক নয় চান করতে নেমে। IMG_0473.jpgএদিকে বীচটা একেবারে নিরিবিলি, পাশেই MAYFAIR হোটেল, সেখানে কিছু মানুষজন থাকবে যদিও আসল  ভিড় হয় এখান থেকে প্রায়  এক কিলোমিটার দূরের গোপালপুর বীচে। img_0446img_0453বীচ ধরে হেঁটে সহজেই সেখানে পৌঁছে যাওয়া যায়, চোখে পড়বে লাইটহাউস আর পর্তুগীজ আমলে বানানো মালখানার ধ্বংসাবশেষ।     20160401_19232720160401_190517.jpgএই বীচে বিকেলের পর থেকে এখানে  ছোটোখাটো একটা মেলা বসে যায়, মানুষজন,  উট,  কুকুর রকমারি জিনিষের দোকান, অজস্র খাবারের স্টল  আর ছোট খাবার হোটেল,  উপরে বাস আর অটো স্ট্যান্ড। এটাই গোপালপুরের প্রাণকেন্দ্র, আমরা এখান থেকে  অটো ধরে আমাদের হোটেল ফিরে চললাম, অটো করতে হল কারন মেনরোড ধরে গেলে রাস্তা একটু বেশিই পরে। 20160402_105739দ্বিতীয় দিন আমরা তপ্তপানি আর চন্দ্রগিরি ঘুরে আসলাম গাড়ি নিয়ে (২৮০০/-), পাহাড় আর জঙ্গল ঘেরা রাস্তা ধরে প্রথমে গেলাম পান্থনিবাস তপ্তপানি, সেখানে Lunchএর order দিয়ে আমরা চললাম চন্দ্রগিরির দিকে, রাস্তার অবস্থা এবার খুব খারাপ কিন্তু দারুন সুন্দর।20160402_121448.jpgএকটা তিব্বতি লোকালয়ের ভিতর দিয়ে যেতে যেতে আমরা পৌঁছে গেলাম জীরাংগো মনেস্ট্রী, সুন্দর করে সাজানো, নিরিবিলি আর খুব রঙ্গিন। প্রায় ঘান্টা খানেক এখানে কাটিয়ে এবার আমাদের ফিরে যাওয়ার কথা তপ্তপানিতে।

জনমানবহীন রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে ড্রাইভার হটাৎ গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ল একটা খোলা মাঠে, আমরা সবাই অবাক। ড্রাইভার বলল এদিকে একটা ফল্‌স আছে চলুন দেখিয়ে নিয়ে যাই আপনাদের যদিও ওটার নাম জানেন না তিনি। গাড়ির সামনে টায়ারএর পুরানো track দেখে আস্বাস্ত হলাম যে আমরা বেপথ হই নি।

মাঠ ঘাট খেত পেরিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি হটাৎ একটা অপূর্ব লাল গাছ দেখে আমি চিৎকার করে বললাম ছবি তোল, ড্রাইভার হেঁসে বলল ওখানেই যাচ্ছি। চিনার গাছের মত একটা গাছের নীচে এসে আমরা থামলাম, পাশে একটা ঘোলা জলের ঝারনা।IMAG042020160402_133814IMAG0404IMAG0414গাড়ি থেকে নেমে মনটা যেন মাতাল হয়ে গেল, মাথার উপর রোদ কিন্তু পায়ের নীচে ঝারনার শীতল বারী, প্রকৃতি যেন নিজেহাতে সব সাজিয়েছে, এটা খাসাডা ফলস্‌। ঝারনা যেন স্নিগ্ধ করছে তপ্ত পাথুরে প্রকৃতিকে ; দুরন্ত এই স্নিগ্ধ প্রকৃতি থেকে চলে আসতে মন চাইছিল না কিন্তু বেশ বেলা হয়ে গেছিল তাই আমদের ফিরে যেতেই হল Taptapani । উষ্ণ প্রস্রাবন আর মন্দির দর্শন করে আমরা ঢুকে পড়লাম পান্থনিবাসে।20160402_154231.jpg 20160402_105739.jpgসুস্বাদু মাংসর সাথে গরম গরম রুটি নিমেশে শেষ হতে লাগলো, আমরা ৪০ টা রুটি তে এসে থামলাম যা আমাদের দিয়ে যাওয়া orderএর দ্বিগুণ। সেদিন আমাদের ফিরতে সন্ধ্যে হয়ে গেছিলো। আজ বিকেল সাড়ে চারটেতে ব্রম্ভপুর থেকে ট্রেন, দুপুরে খেয়ে, একটু রেস্ট নিয়ে আমরা বেরবো, অটো বলা আছে(২০০/-), ছোট্ট ছুটিটা বেশ ভালই কাটল।

Advertisements

3 thoughts on “Gopalpur-on-sea

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s