Unique Black Pagoda of Odissa

 

ভারতের যেকোনো প্রাচীন স্থাপত্য দেখলে আপনি বুঝতে পারবেন আমাদের পূর্বপুরুষরা কত বিত্তবান ছিলেন, অঙ্ক এবং স্থপতি বিদ্যাতে বা শিল্পকলাতে তারা কতটা অভূতপূর্ব ছিলেন এবং তাঁদের কি অসাধারন দর্শন ও দৃষ্টিভঙ্গি ছিল, যেমন চোখের সামনের এই অসাধারন কোনারক।2012-12-08-3652012-12-08-366বলা হয় শ্রী কৃষ্ণএর পুত্র সাম্ব/ শাম্ব কুষ্ঠ রোগের শাপের থেকে মুক্তি পেতে ব্রম্ভার আরাধনা করেন। ব্রম্ভাদেবের কথা মতন তিনি ১২ বছর সূর্য দেবের আরাধনা করেন এবং সুস্থতা লাভ করেন। ব্রম্ভাদেবের বিধান অনুযায়ী দিনের প্রথম সূর্যের রশ্মিতে স্নাত হতে হবে,ডুব লাগাতে হবে ওই নোনতা জলে, আর লাগাতে হবে চারিদিকের নিম গাছের মধ্যে দিয়ে বয়ে আসা বাতাস। কৃষ্ণ-তনয় আরোগ্য লাভ করেন এভাবেই। 2012-12-08-3732012-12-08-374রাজা নরসিংহ দেব (প্রথম) তাঁর মার কথাতে গঙ্গা বংশর নাম ইতিহাসের পাতাতে চিরস্বরনীও করে রাখতে ১২৫৫ সালে এই মন্দির তৈরি করেন। ১২ একর জমিতে ১২ বছর ধরে, ১২০০ শ্রমিক প্রধান স্থপতী বিশু মহারানা এর তত্বাবধানে এই মন্দির চত্বরে থেকে কাজ করেছিল।2012-12-08-3832012-12-08-401এর কারুকার্য আর স্থাপত্য দেখলে আর জানলে তাক লেগে যেতে বাধ্য। এই মন্দিরের সব পাথরের মাঝে মাঝে লোহার পাত আছে, কথিত আছে মন্দিরের চূড়াতে একটা ৫২ টন চুম্বক পাথর ছিল, তার মাহত্বেই পুরো মন্দিরটা শক্ত ভাবে মাথা তুলে ছিল এত শতাব্দী ধরে। এর টানেই মন্দিরের গর্ভগৃহে হাওয়ায়ে ভেসে থাকতো সূর্যদেবের অষ্টধাতুর মূর্তিটি। এই চুম্বকের প্রভাবেই কাছের সমুদ্রের নাবিকরা কম্পাসে দিক নির্ণয় করতে না পেরে পাথরে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যেতেন। 2012-12-08-407.jpgযদিও সত্যটা যাচাই করার জন্য সেই চুম্বক আজ আর নেই, বলা হয় ব্রিটিশরা / পর্তুগিজরা এই চুম্বক লুণ্ঠন করে নিয়ে যায়। এই মন্দিরের  চারটি অংশ ছিল যার মধ্যে প্রধান এবং বৃহত্তম অংশ “বিমান” আজ  ধ্বংসপ্রাপ্ত। আজ যা বেঁচে আছে তা ছিল প্রধান মন্দির “বিমান”এর প্রবেশ পথ এই জগমোহন, নট মন্দির ও ভোগ মন্ডপ এছাড়া আছে মায়াদেবী ও বিষ্ণু মন্দির।IMG_20151016_111629.jpg2012-12-08-404এই মন্দির এমন ভাবে তৈরী যাতে সূর্যের প্রথম আলো নট মন্দির অতিক্রম করে স্পর্শ করে সূর্যদেবের অষ্টধাতুর মূর্তিটি। বিগ্রহের দেহে একটি হীরক খণ্ড ছিল যাতে ওই সূর্যরশ্মি পড়ে সারা গর্ভগৃহ উদ্ভাসিত হত আলোকে।
2012-12-08-364
এই মন্দিরের প্রীতিটা শীলাখন্ডের সাথে জুড়ে আছে পশু-পাখি ও দেবতার অনেক অনন্য রূপ, শিল্পকলাতে  অনেক বিস্বয় এর সাথে ধরা আছে এক রাজার যৌবন, রোজনামচা, তার শিকার ও যুদ্ধ এবং নর্তকীদের আবয়ব। প্রবেশ পথের দুদিকে দুটি বিশাল বাঘ আছে, তার নীচে চাপা পড়ে আছে দুটি হাতি এবং তারও নীচে চাপা পড়ে দুটি মানুষ, মানুষ – যার আজ আর দেখা পওয়া যায় না। বাঘ এখানে শৌর্যের প্রতীক, হাতি বিত্তর প্রতীক এবং মানুষ সর্বদা যে তার নীচে চাপা পড়ে যায়, এই তার অন্তরনিহীত অর্থ।2012-12-08-3612012-12-08-363প্রমাণ না থাকলেও মনে করা হয় যে কালাপাহাড় (Kalapahad was the title given to a Muslim governor Sultan Sulaiman Karrani of Bengal) ১৫০৫ সালে আরও অনেক মন্দিরের সাথে একেও destroy করে দেয় ওড়িশা জয় করার সময়।IMG_20151016_103854.jpg

 

Advertisements

3 thoughts on “Unique Black Pagoda of Odissa

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s