অজানার খোঁজ-এ

img_1425

Bangaloreএ এসে ২ বছর হয়ে গেল কিন্তু শহরের বাইরে কোথাও যাওয়া হয় নি আজ পর্যন্ত। এই কথা বলে বলে বন্ধুদের মাথা খাওয়াতে Chandru (Chandra Sekher Reddy) বলল চল আমার গ্রামের বাড়ি। আরে ভাই আমি তো এক পায়ে খাড়া, রবিবার রাতভর পার্টি করে সোমবার সকাল সকাল আমরা বেড়িয়ে পরলাম অজানার খোঁজ-এ, আমরা বলতে মুম্বাইয়া Shailu (Shailender.K.Rai), নাগপুরিয়া রাজ (Raj Deo Singh),  Andhraএর Prasad Rao আর আমাদের পথ প্রদর্শক আন্ধ্রার দুসরা বান্দা চন্দ্রু (Chandra Sekher Reddy)। আন্ধ্রাতে রেড্ডী আর রাওদের প্রচুর দুষমনি থাকলেও আমরা ছিলাম কারনাটাকাতে খুব ভাল বন্ধু হিসাবে। মাজেস্টিক(Majestic) থেকে ৩০/- টাকার টিকিট কেটে আমরা চড়ে বসলাম সরকারী বাসে গন্তব্য রাম নগর, ১০০ KM ।

img_1429

রাম নগরে নেমে এগিয়ে চললাম কাছের অটো স্ট্যান্ডে, ১০/- টাকা ভাড়াতে কিছু দূর যাওয়ার পরই আমাদের  অটোটা খারাপ হয়ে গেল, বাকি ৫ কিমি. আমরা পাড়ি দিলাম পায়ে হেঁটে। চড়াই রাস্তা, গ্রামে পৌছাতে বেশ সন্ধে হয়ে গেছিল। গ্রামে সবার কুঁড়েঘর। সবাই খুব অতিথি–বতসল কিন্তু আমারা এতজন থাকব কোথায়, যায়গা কোথায়।

img_1431

আসার পথে গ্রামের ঠিক বাইরে একটা I.T.I College দেখেছিলাম। গ্রামের মোড়লের থেকে তার চাবি যোগাড় করে আমরা সেখানেই ঠাঁই নিলাম এক রাতের জন্য। ওনার কাছে শুধু main entrance আর ছাদের চাবি ছিল। সবাই মিলে ছাদে বিছানা বানিয়ে, বয়ে আনা কম্বল জড়িয়ে শুয়ে পড়লাম এক রাতের জন্য। দূষণ হীন  ঝকঝকে  তারা ভরা আকাশ তাতে একফালি চাঁদ, খুব হিম পড়ছিল আর হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডা। বেশ ক্লান্ত ছিলাম, সঙ্গে আনা ওষুধ ঢক ঢক করে গিলে গায়ের গরম বাড়ীয়ে নিয়ে ঢোলে পড়লাম ওই তারা ভরা আকাশের নীচে গভীর ঘুমে।

img_1427

পরের দিন আমরা চললাম trekking এ। পীচ করা রাস্তা একটু পরেই খতম, কাঁচা মাটির রাস্তা এরপর, দুদিকে আমের বাগান, গবাদি পশু চড়ছে, মাথায়ে কাঠের বোঝা নিয়ে মানুষজন, পেছনে কচিকাঁচারা আর আমরা হেঁটে চলেছি একটা পাহাড়ের পাদদেশের দিকে। পাহাড়ের উপরে একটা মন্দির আছে, সেটাই আমাদের গন্তব্য। সোজা রাস্তায়ে না গিয়ে আমরা পাহাড় বেয়ে চললাম উপরের ওই মন্দিরের দিকে, মাঝে একটা গুহাতে আমরা রেস্ট নিলাম, গুহার দুরগন্ধ বোঝাল ভাল্লুক থাকে এখানে।

img_1428img_1424

অসাধারন যায়গায় একটা ছোট্ট সাদা মন্দির, পাশে ফুলের গাছ আর ভজন চলছে মিউজিক সিস্টেমএ। FireHouseএর গান শুনতে শুনতে এই কষ্টকর চড়াই উঠে আমরা একটু রেস্ট নিলাম। মন্দিরে মিউজিক সিস্টেম সারা গ্রাম ওই দেববানি শোনে চিরকাল। আমি কিন্তু ওখানে সবাইকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে চালিয়ে দিলাম  Where did you go…

img_1430img_1426

আধা ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে, সঙ্গে আনা জলখাবার খেয়ে এবার নেবে আসার পালা, ঘরমাক্ত  আমরা  সেই পাহাড়ের নীচের হ্রদএ এসে ডুব লাগালাম। কি যে অসাধারন অনুভুতী তা বলে বোঝানো যায় না। বিশাল একটা প্রাকৃতিক হ্রদ, হ্রদের মাঝে একটা পাথরের তোরণ, আশে পাশে পাহাড়, জঙ্গল, সব যেন শুধু আমাদের জন্য।  ওই ঠাণ্ডা জলে ডুব লাগিয়ে আমরা যেন পূনরজীবিত হলাম।

img_1423img_1422

Bangaloreএ এসে এটাই ছিল আমার প্রথম ট্যুর কিন্তু এই সুন্দর অভিগ্যতা আমার স্মৃতিতে আজও অমলিন, আজও মনে আছে সেই তারা ভরা আকাশ, হ্রদের পরিষ্কার এবং স্থির জল এবং পাহাড়ের উপর থেকে দেখা দৃশ্য অথবা গ্রামের ওই মানুষগুলোর আথিতেওতা…

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s