Mandarmani, before a decay

“ছয় বছর পর কলকাতাতে ফিরে সরস্বতী পুজাতে স্কুলে যাবনা এটা হতেই পারে না…”

আর এইভাবেই আমার স্কুলে ফিরে যাওয়া এবং Debarka ও Abhra-এর সাথে আমার ফিরে দেখা। এই সুযোগ তো আর মাঠে মারা যেতে দেওয়া যায় না সুতরাং আমরা প্ল্যান করে ফেললাম পালানোর, এই কাজের জগত থেকে।

সামুদ্রিক ঝড়ে মেদিনিপুরে বন্যা হওয়ার কদিন পড়েই আমরা তিন মূর্তি চৌরঙ্গী থেকে বাস ধরে সকাল সকাল জাস্ট কেটে পড়লাম বাড়ি থেকে। রাস্তার দুদিকের খেত জলে ডুবে, বাস যাচ্ছে দীঘার দিকে আর আমরা নামবো আলম্ পুর। আলমপুর নেমে প্রথমেই পেট পূজা করলাম কচুরি – জিলিপি দিয়ে আর জোগাড় করে ফেললাম একটা ভ্যান রিকশ যাতে করে আমরা চলে যেতে পারব মন্দারমনি ।

তখন মন্দারমনি বেশ একটা uncommon destination ছিল আর বেশ আলাদা ছিল এখনের থেকে। একটা গ্রামের মাঝখান দিয়ে আমরা চলেছি, দুদিকে মাটির বাড়ি-উঠন, উঠনে ধানের গোলা, গরু-ছাগল- হাঁস-মুরগী, ছোট বড় পুকুর আর বাঁশ ঝাড় নুয়ে পড়েছে এই কাঁচা রাস্তার উপর।

রাস্তা শেষ হল মন্দারমনি সমুদ্রবেলায়ে, এবার বালির উপর দিয়ে যাত্রা শুরু। যে হোটেলের নাম জেনে এসেছিলাম সেটা renovation এর জন্য বন্ধ হওয়ায়  অগত্যা আমরা উঠলাম বীচ এর একেবারে শেষের একটা হোটেলে । এটা যেন শাপে বর হয়েছিল। আমাদের হোটেলের ঘরগুলো ছিল বাঁশের তৈরি কটেজ আর তার সামনে মস্ত একটা মাছের ভেড়ি। আমরা গেছিলাম সপ্তাহর মাঝে তার উপর অবস্থান গুণে বা দোষে হোটেলটা ছিল প্রায় খালি। জনাপ্রতি ৩০০/- আমাদের একদিনের খাওয়ার খরচ বাবদ দিতে হয়ছিল কিন্তু খাওয়া হয়ছিল তার কয়েক গুন বেশি। লোক কম থাকায় আমাদের প্রতি ওনাদের আপ্যায়নটা বেশ ভাল হয়ছিল। সকালে লুচি-তরকারি, দুপুরে ভাত, ডাল, ভাজা, সব্জি, মাছ আর চাটনি, সন্ধে বেলায় এক গামলা মুড়ি-চানাচুর সঙ্গে তেলেভাজা আর রাতে মাংস-রুটি। মুড়ি আমার ঠিক চলে না, মনে হয় effort বেশি কিন্তু outcome কম মানে অনেক চিবিয়ে অল্প পেটে যায়। কাজেই বাকি দিনগুলো আমরা মুড়ি-তেলেভাজার বদলে চিকেন পকোড়া দেওয়ার দরবার করলাম। পেলামও আবার তার জন্য টাকা খরচ হল না, শুধু আমাদের waiter দাদাকে রোজ ২ পেগ করে দিতে হত।

রোজকার রুটিন একই, ভোর ভোর উঠে নির্জন বীচে সূর্যোদয় উপভোগ করা , বিশুদ্ধ বাতাস সেবন করা, লাল কাঁকড়াদের ধাওয়া করতে করতে মোহনার দিকটা ঘুরে রোদ চড়ার আগে চা সেবন করে হোটেলে ফেরা। জলখাবার খেয়ে নির্জন সমুদ্রে ঘণ্টা খানেক চান করে ক্লান্ত আর ক্ষুদারত হয়ে হোটেলে ফিরেই দুপুরের খাওয়া সাঙ্গ করা। তারপর জম্পেশ করে একটা ঘুম, বিকালে উঠে আবার সমুদ্রের ধারে ঘুরতে যাওয়া, রাত অবধি থেকে হোটেলে ফেরা।

দু-রাত থেকে আমাদের এত ভাল লেগে গেছিলো যে আমরা আরেকটা দিন বেশি থেকে যাওয়ার plan করলাম। কিন্তু সমুদ্রের ধারের এই হোটেলটা আগামি দুদিনের জন্য পুরো book থাকায় আমরা অপর এক হোটেলে গিয়ে উঠলাম। এই হোটেলটায় পাঁচটা রুম আর সবকটাই খালি। এখান থেকে সমুদ্র অগোচর হলেও হাওয়া আর আওয়াজ তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। এরা বেশ আনন্দিত হল আমাদের দেখে আর আরও আনন্দ পেল যখন আমরা মৌরলা মাছ  ভাজা-ডাল -ভাত দিয়ে চেটেপুটে খেলাম। এর ফল স্বরূপ সন্ধেবেলা এরা আমাদের তিনজনের জন্য প্রায় চল্লিশটা চিকেন পকোড়া দিয়েছিল।

এই হোটেলের রাতটাও আমরা আরামেই কাটালাম। পরের দিন জলখাবার খেয়ে আমরা গিয়ে দাঁড়ালাম রাস্তার ধারে যেখানে রাস্তা এসে মিশেছে সোনালী বালুকাবেলায়। কিছুক্ষণ পর যে ট্রেকার এসে দাঁড়াল সেটাতে আর তিল ধারনের যায়গা ছিল না। কিন্তু  আলমপুর থেকে বাস ধরতে না পারার ভয়ে আমারা আরও কিছু স্থানীয় মানুষের সাথে চড়ে বসলাম সেই ট্রেকারের মাথাতে। সে ছিল না ভোলার মতন এক ঘটনা, রাস্তার উপর ঝুঁকেপরা বাঁশ ঝাড় আর গাছের ডাল থেকে অনবরত বাঁচতে বাঁচতে অক্ষত অবস্থায় কোনোমতে এসে নামলাম আলমপুরে…

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s