Destination Digha

No offence কিন্তু সত্যি বলছি, দিঘার নাম শুনে চোখ বন্ধ করলেই যে ছবিটা ভেসে ওঠে তা হল সমুদ্রের ধারে লাল চেক চেক গামছা পরে অথবা নাইটির উপর গামছা জড়িয়ে অগুন্তি মানুষ। অধিকাংশই বাঙালি, হবে না আবার ! পশ্চিমবঙ্গর গোয়া বলে কথা। আমার আবার ওই হই হট্টগোল পোষায় না কাজেই ২০০৫এর পর ওইদিকে আর পা বাড়াই নি। যদিও শেষ রক্ষা হল না, আবারও একবার চলেছি দিঘা যদিও একেবারেই প্ল্যান না করে। 858614_673007242721552_1617254572_oকোনো এর মঙ্গলবার কাজের চাপে অতিষ্ঠ হয়ে ফোন করে বসলাম হোটেল সী হক্এ, জানা গেল রুম আছে খালি। কাজেই আর কোনো বাধা নেই বেড়িয়ে পড়তে, বিকেল চারটে নাগাদ চেপে বসলাম মেট্রোতে। এসপ্ল্যানেড নেমে চলে আসলাম শহীদ মিনার এর কাছে, এখানে এসে জানতে পারলাম দিঘা যাওয়ার পরের বাস ৬টা নাগাদ ছাড়বে। একটু এদিক ওদিক ঘুরে নিয়ে টুকটাক কিছু উদরস্থ করে আমরা চড়ে বসলাম লরঝরে বাসে। বাস ছাড়ল দেরি করল এবং পথে এত লোক ওঠা নামা করল যে দিঘায় ঢুকতে ঢুকতে প্রায় বারোটা বেজে গেল। এত দেরী হতে পারে তার কোনো কল্পনাই ছিল না, ভেবেছিলাম সী হক্এ এসে ডিনার করব কিন্তু কিচেন বন্ধ হয়ে যাওয়াতে কোনো খাওয়ারই জুটল না। পেটে শুধু ঝালমুড়ি পড়েছে রাস্তায় আসতে আসতে  আর পকেটে এক প্যাকেট বিস্কুট। সেই রাতে কারুরই আর ভাল ঘুম হয়নি কারন পেটে রাক্ষুসে খিদে, কাজেই সূর্যের আলো ফোটার আগেই আমরা বীচের ধারে খাবারের দোকানে হামলা করলাম। 

1470222_673007416054868_637702561_n

বীচের দিকে পা ঝুলিয়ে বসে গোগ্রাসে গিলতে গিলতে সূর্যোদয় দেখলাম আমরা, এত সুখকর সূর্যোদয় দেখার অভিজ্ঞতা এই জীবনে আর হয় নি এবং চাইও না যে আবার হোক। যাইহোক বেলা বাড়ার আগেই আমরা সমুদ্র স্নান সেরে রুমে ফিরে এলাম। এরপর শুরু হল ম্যারাথন ঘুম, দুপুর দুটো নাগাদ উঠে লাঞ্চ করে আবার ঘুম। মশার কামড়ে ঘুম ভাঙল, উঠে বুঝতে পারলাম যে আজকের দিনটা ফুরিয়ে গেছে প্রায়, সন্ধে সাতটা বাজে ঘড়িতে। ফ্রেশ হয়ে বেরলাম ঘুরতে, যাব বাজার, টুকিটাকি কেনার আছে আর সঙ্গে চলবে বাজার সার্ভে। কেনাকাটা আর সার্ভে শেষ করে আমরা হোটেলের কাছাকাছি এসে নিরিবিলি যায়গা দেখে একটু বসলাম, উদ্দেশ্য সমুদ্রের হাওয়া উপভোগ করা। 1421075_673007139388229_802220788_oপরের দিন সকাল সকাল আমরা হোটেল ছেড়ে দিলাম, প্রথমে ঘুরে আসলাম মোহনা থেকে তার পরের প্ল্যান হচ্ছে নিউ দিঘার বীচে বসে বেশ কিছুটা সময় কাটানো, তারপর Marine Aquarium দেখে আমরাবতী পার্ক ঘুরে তিনটের মধ্যে দিঘা স্টেশন, সাড়ে তিনটেতে দুরন্ত ধরতে হবে। কিন্তু যত আমরা নিউ দিঘার দিকে এগোতে থাকলাম তত আমাদের মুখ শুকিয়ে যেতে থাকল, কাতারে কাতারে লোক চলেছে গামছা পড়ে বীচের দিকে। এই ভয়ে আমি দিঘা আসা ছেড়ে দিয়েছিলাম, কাতারে কাতারে লোক, তারা বীচটাকে অলরেডি ডাস্টবিন বানিয়ে ফেলেছে, তাতেই ক্ষান্ত না হয়ে অনেকে এই খোলা আকাশে নীচে পেট হাল্কা করছে, বেশরমের মতন জামা কাপড়ও বদল করে ফেলছে সবার চোখের সামনে। আমার মাথা প্রায় খারাপ হওয়ার জোগাড় কাজেই কালবিলম্ব না করে আমরা চলে আসলাম Marine Aquariumএ। অল্প সময় কাটিয়ে ঢুকে পড়লাম আমরাবতী পার্কে। মাথার উপর ঝাঁঝাঁ রোদ, গরম আর ঘামে আমরা কাহিল হয়ে পড়েছি, ঘড়িতে সবে সাড়ে দশটা, বুঝতে পারলাম বাকি পাঁচ ঘণ্টা এভাবে কাটানো সম্ভব নয়। ঠিক করলাম স্টেশনে গিয়ে পাখার নীচে বেঞ্চ খুঁজে বসে থাকবো, সেইমত আমরা হাজির হলাম স্টেশনে আর সিমেন্ট দিয়ে বানানো একটা বেঞ্চ দখল করে বসলাম। মাথা গরম ছিলই হয়ত একটু ডিহাইড্রেটেট হয় পড়েছিলাম এবার এর সাথে যুক্ত হল মাথা ব্যাথা কাজেই আমি অস্থির হয়ে উঠেছিলাম, বুঝতে পারছি শরীরটা আরও খারাপ হচ্ছে।

1470102_673007606054849_528558979_n

আমি জানতাম যে প্রায় সব স্টেশনেই রেস্ট রুম ভাড়া পাওয়া যায়, বুক ঠুকে হাজির হলাম স্টেশন মাস্টারের সামনে। অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে সব কথা শুনলেন, মনে হল এর আগে কোনো সাধারন যাত্রী রুমের বায়না করেন নি এখানে। বাকি কাজটা করে দিলেন ওনার সহকারী, আমাদের ট্রেন এর টিকিট পরীক্ষা করে খাতায় কিছু এন্ট্রি করে একটা রশিদ লিখে ধরিয়ে দিলেন আমাদের হাতে, দিতে হল মাত্র ২৪৮/- টাকা। উনিই আমাদেরকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে রুম খুলে দিলেন। হাঁফ্‌ ছেড়ে বাঁচলাম, মোটামুটি বড় ঘর, তাতে একটা বড় খাট সাদা চাদর পাতা, উইন্ডো এসি চলছে হনহন করে পাশে লাগোয়া বাথ্রুম। রুমের একদিকে বড়বড় কাঁচের জানালা, মোটা পর্দা সরাতেই দেখলাম জানালার ওই পাশে ১ নম্বর প্লাটফর্ম দেখা যাচ্ছে। আমরা নিশ্চিন্ত হয়ে আরাম করে শুয়ে বসে রেস্ট নিতে লাগলা্‌ হাতে এখন তিন ঘণ্টা সময় আছে। আস্তে আস্তে মনের বিরক্তি আর শরীরের অস্বস্তি আর ক্লান্তি কেটে যেতে লাগলো। তিনটের একটু পরে জানালা দিয়ে দেখলাম আমাদের ট্রেন ১ নম্বর প্লাটফর্মে এসে দাঁড়াল, এবার আমরা আস্তে আস্তে উঠলাম, স্টেশন মাস্টারের কাছে চাবি জমা দিয়ে গুটি গুটি ট্রেনে চড়ে বসলাম, ভাবটা এমন; এখন সুস্থ শরীরে বাড়ি পৌছাতে পারলে হয়…

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s