ঝাড়গ্রাম ২

IMG_3763

গতকাল সন্ধ্যেবেলা হোটেলের ছাদ থেকে বসন্ত-পূর্ণিমার পূর্ণচন্দ্রের ছবি তুলতে তুলতে আমি চন্দ্রাহত হয়ে পড়েছিলাম। এটাকে বলে এপিলেপ্টিক কনভালসান, সোজা ভাষায় বলতে গেলে, আমার CPUটা আচমকা  shutdown হয়ে গেছিল যদিও monitorটা (আমার চোখ) হয়ত চালু ছিল। এই অবস্থা কতক্ষণ ছিল তা আমার জানা নেই তবে যখন আমার সিস্টেমটা আবার রিস্টার্ট হল দেখলাম আমি একটা চেয়ারএ বসে। সিস্টেম রিস্টার্ট হলেও বেশ hang করছিল programগুলো, বাকিরা যখন আমার কুশল জিজ্ঞাসা করছিল, আমার বেশ সময় লাগছিল সেই কথাগুল বুঝে তার উত্তর করতে। এরপর আস্তে আস্তে আমি স্বাভাবিক হয়ে উঠছিলাম আর তাতে আমার সঙ্গীদের উৎকন্ঠাও আস্তে আস্তে প্রশমিত হতে লাগলো। তবে একটা কথা না বললেই নয়, আমার এই অসময় এনারা সবাই যেভাবে আমার পাশে থেকেছেন এবং তারপর থেকে যেভাবে আমাকে সামলিয়ে রেখেছিলেন তা সারাজীবন ভোলার নয়, উদয়নদা, বসুন্ধরাদি, সায়ান, প্রসেনজিত এবং নিবেদিতা, তোমাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

IMG_3800

আজ আমাদের ঝাড়গ্রামের দ্রষ্টব্য স্থানগুলো ঘুরে দেখার কথা। কাজেই প্রাতরাশ পশ্চাতে আমরা সওয়ারি হলাম গাড়িতে, সঙ্গে আছে সুমন, আমাদের গাইড। আমরা চলেছি জঙ্গল ভেদ করে, মাঝে মাঝে একটু করে ক্ষেতের জমি, ছুট ছাট লোকালয় আর চার মাথার মোড়গুলতে দোকানপাট, সুন্দর পরিবেশ এবং আমাদের গন্তব্য ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি। রাজবাড়ি চত্বরে ঢুকে দেখলাম বাগান, ফোয়ারা, মন্দির মিলে বেশ ভাল ভাবেই সংরক্ষিত এই রাজবাড়ি। শিব মন্দিরের পিছনে অনেকগুলো কাঠের মুগুর রাখা ছিল আর রাধা-কৃষ্ণের মন্দিরে চালু ছিল কীর্তন।

আমরা এখানে আধা ঘণ্টার মতন ছিলাম তারপর রওনা হলাম চিল্কিগড় – কানাকদুর্গার মন্দির। চিল্কিগড় রাজবাড়িটা বেশ পুরানো পুরানো দেখতে হলেও পাশে কানাকদুর্গার মন্দির দেখে বেশ কষ্টই পেলাম, মনে হল গড়পাঞ্চকোটের মন্দিরটার মতন এটাকেও হয়ত সংরক্ষণের নামে ঐতিহ্য ভুলে এক আধুনিক মন্দির বানিয়ে ফেলেছে। তবে এই মনঃকষ্ট অচিরেই দূর হল যখন পাশেই সেই পুরাতন কানাকদুর্গার মন্দিরটি খুঁজে পেলাম, উদয়নদার লেখনীতে মাঝখান দিয়ে ফাটা মন্দির, ছোট ভাঙাচোরা কিন্তু খুব charming.

IMG_3830IMG_3837IMG_3835IMG_3836IMG_3834 - Copy

এর পাশেই ছিল ডুলুং নদী, নামে যেমন মিষ্টতা আছে তেমনি এর বসনও, আপনি চাইলে এর পাশে থাকতেও পারেন একরাত, রাত্রি যাপনের সুব্যবস্থা করা হয়েছে এখানে।IMG_3849IMG_3832 - Copy

এবার আমরা যাব বেলপাহাড়ি, আবার সেই জঙ্গুলে রাস্তা ধরলাম এবং প্রথমে থামলাম ঘাঘরা জলপ্রতাপের পাশে। বছরের এই সময় এখানে জলপ্রপাতের দেখা না পেলেও টলটলে জমা জলের দেখা পেলাম। আর বিস্মিত হলাম অধুনা শুকনো এই প্রপাতের rock formation দেখে, একসঙ্গে অপূর্ব এবং ভয়ঙ্কর।

এখানকার সৌন্দর্য চোখে মেখে আমরা রওনা হলাম গররাসিনির পথে। গররাসিনি আদতে একটি আশ্রম, উদয়নদা বহুকাল আগে যখন পদব্রজে এখানে এসেছিলেন তখন এখানে একটি জলসত্র ছিল। সুমন আগেই বলেছিল যে সেই জলসত্র এখন আর নেই বদলে সেখানে টিউবওয়েল বসে গেছে এখন। গাড়ি যেখানে থেমেছে সেই সমতল ভূমি থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার চড়াই উঠে শ্বেতশুভ্র একটি মন্দির আছে।

আমি শারীরিক কারনে আর সেখানে যাই নি এবং দেখলাম আমি একা নই, আরও দুজন থেকে গেল আমার সাথে। বাকিরা কিন্তু খুব অল্প সময়েই ওই মন্দির থেকে ঘুরে ফেরত আসল আর ওঠা নামার পথের সৌন্দর্য বলার সাথে এও বলল যে তারা উপর থেকে একটি সুন্দন হ্রদের দেখা পেয়েছে। এবং আমাদের পরবর্তী এবং শেষ গন্তব্য ছিল সেই হ্রদ, নাম তার খন্দারানি।

নামে কি আসে যায়, রুপে গুনে আর বসনে খন্দারানি এক অসামান্য হ্রদ। এত সুন্দর যায়গায় এসে আমরা সবাই বিমোহিত হয়ে পড়েছিলাম তাই সময় কিভাবে কেটে গেল বুঝতেও পারলাম না। সূর্য এবার অস্তাচলে, আমরা প্রচুর ছবি তুলেছি কিন্তু সবার মনটা খারাপ কারন আমাদের ঘোরা শেষ। এবার হোটেলে ফেরত যাওয়ার পালা আর আগামীকাল কলকাতায়, তবু উদয়নদার ধন্যবাদ প্রাপ্য আমাদের খান্দারানিতে সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

ঘুরতে গেলে পুরানো পাপীদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়াই ভাল, তাই তো এরকম একটা ট্যুর করার সুযোগ হল, তবে শুধু এই বলে শেষ করব না, আশা রাখব এরকম ট্যুর বারেবারে হবে… three cheers for Jana-Ajanar-Pothe…

Advertisements

One thought on “ঝাড়গ্রাম ২

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s