Bawali Rajbari

আমরা যখন বাওয়ালি রাজবাড়ির কাছে এসে নামলাম তখন চারিদিক বেশ ভেজা ভেজা, কারন একটু আগেই বৃষ্টিটা থামল। গাছের পাতারা ওই বৃষ্টির জলে নেয়ে ঝকঝকে সবুজ আর ইঁটের তৈরি এই বাড়ি বেশ লালচে।

13765939_1164871503535121_7092324390160262533_o13754567_1164871736868431_9056020635654643031_n

যেখানে নামলাম তার পাশেই একটা পুকুর, টলটলে জল তাতে, দূরে ওই দেখা যায় পুরানো জৈন মন্দির। রাজবাড়িতে ঢুকতে যেতে আমাদের বাধা দিলেন উর্দি ধারি বুড়ো দারোয়ান, বললেন ভেতের ঢোকা মানা। এটা এখন হোটেল হয়ে গেছে। তবে আমরাও নাছোড় বান্দা, কোলকাতা থেকে বৃষ্টি-বাদলা মাথায় করে যেটা দেখতে আসা সেটাই যদি অদেখা থেকে যায় তাহলে তো অভিযানটাই ব্যর্থ। 

13738280_1164871870201751_7250583598580193155_o13698031_1164871826868422_7738821113370680488_o

আমি আর অর্জুন কথা-বার্তা চালাচ্ছি এমন সময় শারবা গটগট করে ভেতরে ঢুকে গেল। এবার ওকে আটকাতে দারোয়ান ছুটল  ভিতরে আর আমরাও ওনার পিছুপিছু ঢুকে পড়লাম। ফটক, তারপর একটা ছোট গলি যেটা উন্মুক্ত হচ্ছে বিশাল এক চৌকো উঠনে সেখানে এসেপড়লাম আমরা। আমাদের বাকবিতণ্ডা শুনে ম্যানেজার বাবু  ততক্ষণে এগিয়ে এসেছেন, ইয়ং ননবেঙ্গলি ভদ্রলোক। এবার পরিস্থিতি সামাল দিল অর্জুন, ও B.H.M পাশ করে তাজ-এ শেফ্‌ এর কাজ করেছে তারপর কিছুদিন ছিল দুবাইতে আর এখন একটা নামজাদা  কোম্পানির টেরিটরিয়াল হেড কাজেই একটা ডুয়েল অ্যাটাক হল ম্যানেজার বাবুর উপরে। 

13710571_1164871770201761_2925254493945437172_o13701082_1164871603535111_642637567692885231_o13701019_1164871710201767_2352917370196154691_o

অ্যাটাকটা  ভারবাল, সাইকোলজিকাল আর বন্ধুত্বপূর্ণ  হওয়াতে উনি আমাদের একটা ইউনিট ঘুরে দেখার অনুমতি দিলেন। উনি নিজেই আমাদের সঙ্গে নিয়ে ঘোরালেন, আমি অনুমতি নিয়ে ভেতরেরও কিছু ছবি তোলার সুযোগ পেলাম। রাজকীয় ঘরে রাজকীয় ভাবে থাকার ব্যবস্থা এবং বাথ্রুমটাও সমতুল্য, তবে তার জন্য খরচ হবে ভালই। সাড়ে-পাঁচ থেকে সাত হাজার লাগবে একরাত থাকতে আর ভেজ থালি বারোশো সম্ভবত কাজেই এখানে একরাত থাকার যে সুপ্ত ইচ্ছাটা ছিল সেটা কর্পূরের মতন উবে গেল, তবে আমরা দমে যাইনি।

13731964_1164871996868405_1067497000086733637_o13719675_1164871486868456_7154773964279144942_o13701082_1164871906868414_7407481484849141377_o

 

 চারিদিকে পুরানো আসবাব, স্বেতপাথরের টেবিল,কাঠের বিশাল সিন্দুক, পালঙ্ক, ঝাড়বাতি, পাঙ্খা, রঙ্গিন কাঁচের  খেলার সাথে কটা সাদাকালো ছবি দেখলাম ঘরের ভিতরে। দেখে মনে হল সত্যজিৎ রায়ের বানানো কোনো ছবির ছবি যদিও এর উৎস জানতে পারলাম না তবে ম্যানেজার বাবু বললেন যে চোখের বালি এবং গয়নার বাক্স-এর মতন বেশ অনেক ছবিরই শুটিং হয়েছে এবং হয়। আমাদের ঘোরা হয়ে গেছে এবার আমরা বিদায় নেব, আবার সেই চাতাল বা উঠোনটাতে ম্যানেজার বাবুর সাথে দাঁড়িয়ে, তখন ওনাকে গুডবাই করে ভিজিটিং কার্ড আদান প্রদান করার সময়। তবে আমাদের আরও কিছু জানবার ছিল।

13662126_1164871880201750_4988848808144869873_o13631391_1164871800201758_6489286672699992995_n13606822_1164871920201746_5120186723563429196_n

মাছ ,ধরা পড়ে গেছে… এরপর শুধু কথপকথন দিলাম, শেষটা নিজেরাই ভেবে নিন…

আপনি কি এখানেই থাকেন?

… হ্যাঁ

রাত্রে কি সব আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়?

…weekend-এ এখানে আলো জ্বালা থাকে, সারা বাড়িতে।

… এখানে প্রতি শনিবার ফোক্‌ ডান্স বা বাউল  গান হয়।

বাকি দিনগুলোতে আলো বন্ধ করে দেওয়ার পর আপনার কি মনে হয়?

…spooky লাগে, তারপর বেশ ভয় করে

…মনে হয় এখানে ভূত আছে…

https://www.facebook.com/sayantanmajumderpt/media_set?set=a.1164883793533892.1073741872.100000368487798&type=3

   

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s